
ভারত সফররত আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির এক নারী সাংবাদিকবর্জিত সংবাদ সম্মেলন নিয়ে নয়াদিল্লিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রসহ দেশটির বিশিষ্ট রাজনীতিক ও নারী সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লির আফগান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কেবল পুরুষ সাংবাদিকদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। নারী সাংবাদিকেরা সেখানে উপস্থিত হলেও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এতে সাংবাদিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ জানায়, ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা ছিল না। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্ন—তাহলে কি তারা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বা আফগান সরকারের নীতির নিন্দা করেছে?—এর কোনো উত্তর মন্ত্রণালয় দেয়নি।
তালেবান সরকারের অতিথি হিসেবে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মুত্তাকি হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে আফগান দূতাবাস বেছে নেয় কেবল পুরুষ সাংবাদিকদেরই।
এই ঘটনায় ভারতীয় নারী সাংবাদিকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দ্য হিন্দু পত্রিকার সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দার এক্সে লেখেন, “তালেবান তাদের নারীবিদ্বেষী নীতি ভারতেও নিয়ে এল। এটা বাস্তববাদিতা নয়, আত্মসমর্পণ।” সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বলেন, “আফগান নারীদের দুঃখ নিয়ে ভারত বক্তৃতা দেয়, অথচ এ দেশে নারীবর্জিত সংবাদ সম্মেলনে অতিথিকে স্বাগত জানানো হচ্ছে!”
সাংবাদিক বিজেতা সিং বলেন, “পুরুষ সাংবাদিকদের উচিত ছিল প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বর্জন করা।” সাংবাদিক গীতা মোহন মন্তব্য করেন, “এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে প্রশ্ন তোলেন, “নারী সাংবাদিকদের এমন অপমানের পরও সরকার নীরব কেন? ভারত নারীদের গর্ব বলে দাবি করে, অথচ তাদের মর্যাদা রক্ষায় নীরব থাকে!”
তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র বলেন, “সরকার দেশের প্রতিটি নারীর সম্মানহানি ঘটিয়েছে। এমন বৈষম্যমূলক আচরণের অনুমতি দিয়ে কেন্দ্র তার মেরুদণ্ডহীনতার প্রমাণ দিয়েছে।”
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরম বলেন, “ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝি, কিন্তু এমন আদিম রীতির প্রতি আত্মসমর্পণ লজ্জাজনক। পুরুষ সাংবাদিকদেরও উচিত ছিল প্রতিবাদ জানানো।”
কংগ্রেস মুখপাত্র শামা রহমান আরও সরব হয়ে বলেন, “আমাদের দেশে এসে তাদের বৈষম্যমূলক নীতি চালাতে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের লজ্জিত হওয়া উচিত।”
তালেবান সরকারকে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবুও মুত্তাকির সফর ছিল আনুষ্ঠানিক ও উচ্চপর্যায়ের। হায়দরাবাদ হাউসের বৈঠকে কোনো দেশের পতাকা ছিল না, তবে সংবাদ সম্মেলনের সময় মুত্তাকি আফগানিস্তানের একটি ছোট পতাকা টেবিলে স্থাপন করেন।
মুত্তাকি জানিয়েছেন, কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে এবং ভারতে আফগান দূতাবাসেও শিগগির নতুন কূটনীতিক নিয়োগ দেওয়া হবে।