
সকালের ভালো অভ্যাস যেমন দিনটিকে ইতিবাচকভাবে শুরু করতে সাহায্য করে, তেমনি ঘুমানোর আগের কিছু সঠিক অভ্যাস দিনশেষে এনে দিতে পারে মানসিক প্রশান্তি ও আগামী দিনের জন্য নতুন উদ্যম। সফল মানুষরা জানেন—রাতের সময়টাকে কীভাবে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করতে হয়। নিচে এমন পাঁচটি অভ্যাস দেওয়া হলো, যা নিয়মিত চর্চা করলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আরও সংগঠিত, শান্ত ও সফল।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন স্ক্রলিংয়ের বদলে ১০–১৫ মিনিট সময় দিন পরের দিনের পরিকল্পনায়।
কোন কাজগুলো আগে করবেন, কী পরবেন, কোন মিটিং গুরুত্বপূর্ণ—এসব আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। এতে সকালটা শুরু হবে বিনা দুশ্চিন্তায় ও স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে।
সফল মানুষেরা প্রতিদিনের শেষে কিছু সময় নেন ভাবার জন্য—
দিনটা কেমন গেল? কী ভালো হলো, কোথায় ভুল হলো?
নিজের কাজ বিশ্লেষণ করলে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং প্রতিদিন নিজেকে একটু করে উন্নত করা সম্ভব হয়।
ঘুমানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটালে মস্তিষ্ক অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
তাই সফল ব্যক্তিরা শোবার আগে ফোন, ট্যাব, টিভি থেকে দূরে থাকেন। এর বদলে তাঁরা বই পড়েন, ধ্যান করেন, ডায়েরি লেখেন বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এতে মন শান্ত হয়, ঘুম গভীর হয় এবং সম্পর্কও মজবুত হয়।
শরীর ও মনের সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে গুণগত ঘুম অপরিহার্য।
সফল মানুষরা নির্দিষ্ট ঘুমের সময় বজায় রাখেন, ঘুমের আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করেন এবং ক্যাফেইন বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলেন। এতে তাঁরা পান প্রশান্ত ঘুম ও সকালের সজীবতা।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখ বন্ধ করে নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণের দৃশ্য কল্পনা করুন।
এই মানসিক অনুশীলন বা ভিজ্যুয়ালাইজেশন আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা বাড়ায়। সফল মানুষরা ঘুমানোর আগে নিজেদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কল্পনা করে মনকে প্রস্তুত করেন নতুন দিনের জন্য।
দিনের শেষটা যদি এই পাঁচটি সহজ অভ্যাসে সাজানো যায়, তাহলে পরের দিনের সকাল হবে আরও প্রাণবন্ত, লক্ষ্যনিষ্ঠ ও সফলতার পথে এক ধাপ এগিয়ে।