অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন,
“আমরা সেফ এক্সিট চাই না, স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে এই দেশেই থাকব।”
শনিবার দুপুরে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ওলামা পরিষদ আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আমরা চলে যাব। আমার কোনো সেকেন্ড হোম নেই, এমনকি ঢাকাতেও নিজের বাড়ি নেই। আমি এই দেশের মানুষ—এই দেশেই থাকব।”
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, “অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে রাজনৈতিক লিয়াজোঁ করছেন এবং সেফ এক্সিটের চিন্তা করছেন।” তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা–সমালোচনার জন্ম দেয়।
সম্প্রীতি সমাবেশে ঐক্যের বার্তা
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা হাজী শরীয়ত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাদেক হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, ও পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন।
কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির আহ্বান
এর আগে রাঙামাটির রাঙাপানি মিলন বিহারে ৫১তম কঠিন চীবর দান ও প্রথম সম্মিলিত জাতীয় কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন,
“বাংলাদেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্প্রীতির দেশ। সাম্প্রদায়িক মানসিকতা মানুষকে ছোট করে, কিন্তু ধর্মীয় সৌহার্দ্য আমাদের শক্তি।”
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “এই অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়ন চাইলে দরকার নৈতিক আদর্শ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সদস্যসচিব সুকোমল বড়ুয়া, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারসহ সাড়ে তিন শ বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।
