
ঢাকার নবাব পরিবারের ঐতিহাসিক ‘দরিয়া–ই–নূর’ হীরার প্যাকেট উন্মুক্ত করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এই হীরা আদৌ সোনালী ব্যাংকের ভল্টে আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেল।
ভূমি সংস্কার বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, ১১ অক্টোবর (শনিবার) মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সোনালী ব্যাংকের ভল্টে থাকা ‘দরিয়া–ই–নূর’ পরিদর্শনের কথা ছিল। তবে ৯ অক্টোবর বোর্ডের পক্ষ থেকে হঠাৎ এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দীন নাগরী জানান, “স্থগিতের কারণ আমি জানি না, এটা ওপরের সিদ্ধান্ত।” তবে তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো আইনগত জটিলতা নেই।
ঢাকার নবাব পরিবারের ১০৯ ধরনের রত্ন, যার মধ্যে রয়েছে কিংবদন্তিতুল্য ‘দরিয়া–ই–নূর’, ১৯০৮ সাল থেকে সোনালী ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত আছে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ আছে। ব্রিটিশ আমলে এর মূল্য ধরা হয়েছিল ১০ লাখ ৯ হাজার ৮৩৫ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এই হীরা এখনো সেখানে আছে কি না, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
চলতি বছরের ২৬ মে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘দরিয়া–ই–নূর’সহ নবাব পরিবারের রত্ন উন্মুক্ত ও সংরক্ষণের জন্য ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে সভাপতি ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সদস্যসচিব করা হয়। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় জাদুঘর ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।
কমিটি সম্প্রতি দুটি বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত নেয়, প্যাকেট খুলে জাতির সামনে সত্য প্রকাশ করা হবে। ৫ অক্টোবর ভল্টে একটি মহড়া চালানোও হয়, যাতে পরিদর্শনের সময় কোনো গাফিলতি না ঘটে। পুরো প্রক্রিয়াটি রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত হয়, তবে সরাসরি সম্প্রচার নয়—শুধু বিটিভি উপস্থিত থাকবে।
সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও ৯ অক্টোবর ভূমি সংস্কার বোর্ডের এক চিঠিতে জানানো হয়, “অনিবার্য কারণবশত ১১ অক্টোবরের উন্মুক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।”
একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের হঠাৎ ব্যস্ততার কারণেই তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদ বলেন, “কয়েকজন সদস্য ঢাকার বাইরে ছিলেন, তাই স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ বৈঠক করে নির্ধারণ করা হবে।