
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লেখক ও শান্তিকর্মী মিশেল এলনার মনে করেন, মাচাদোর রাজনৈতিক জীবন শান্তি নয়, বরং সহিংসতা, নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতীক।
মিশেল লিখেছেন, “আমি ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া একজন আমেরিকান, আমি জানি মাচাদো আসলে কী প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ওয়াশিংটনের রেজিম চেঞ্জ পরিকল্পনার মুখপাত্র—যিনি বিদেশি হস্তক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র’ হিসেবে প্রচার করেছেন।”
২০০২ সালে ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হওয়া অভ্যুত্থানে মাচাদোর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সংবিধান বাতিল করা ‘কারমোনা ডিক্রি’-তে স্বাক্ষর করেছিলেন। এলনারের দাবি, মাচাদো নিজের দেশকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “মাচাদো জানতেন নিষেধাজ্ঞা মানেই নীরব যুদ্ধ। তবুও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন পুতুল সরকারের অন্যতম সংগঠক ছিলেন, যেখানে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।”
এলনারের মতে, মাচাদোর নোবেল জয় নোবেল পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাঁর ভাষায়, “যদি এমন ব্যক্তিই শান্তির প্রতীক হন, তবে ‘শান্তি’ শব্দটাই অপমানিত হবে।” তিনি তুলনা টেনে বলেন, “যদি হেনরি কিসিঞ্জার শান্তিতে নোবেল পান, তবে মাচাদোর পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।”
মিশেল এলনার লেখেন, “শান্তি আসে না কোনো পুরস্কার থেকে; আসে মানবতার পাশে দাঁড়ানো মানুষদের কাছ থেকে।”
তিনি মনে করেন, প্রকৃত শান্তিকর্মীরা হলেন—
গাজার ধ্বংসস্তূপে কাজ করা চিকিৎসকরা,
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকেরা,
ত্রাণকর্মীরা, যারা অবরোধ ভেঙে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে লড়াই করছেন।
তাঁর মতে, প্রকৃত শান্তির পুরস্কার প্রাপ্য ভেনেজুয়েলা, কিউবা, ফিলিস্তিন ও বৈশ্বিক দক্ষিণের মানুষ, যারা স্বাধীনতা ও মর্যাদার জন্য সংগ্রাম করছেন।