
নামিবিয়ার মরুভূমি থেকে একদল সিংহ এখন চলে এসেছে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে। খাদ্যের অভাবে মরুভূমি ছেড়ে সমুদ্রতটে গিয়ে তারা হয়ে উঠেছে বিশ্বের একমাত্র ‘সমুদ্রতটের সিংহ’ (Coastal Lions)।
বেলজিয়ামের আলোকচিত্রী গ্রিয়েট ভ্যান মালডেরেন এই অসাধারণ অভিযোজনের দৃশ্য ধারণ করেছেন তাঁর ক্যামেরায়, যা লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, নামিবিয়ার স্কেলেটন কোস্টে এক সিংহী—গামা, সামনে তার শিকার—একটি মৃত কেপ ফার সিল, আর পেছনে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ।
খাদ্যের সংকট দেখা দিলে ২০১৭ সালে এই সিংহগুলো মরুভূমি ছেড়ে আটলান্টিক উপকূলে চলে আসে। সেখানে এসে তারা নতুন এক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়—সিল, ফ্লেমিঙ্গো ও সামুদ্রিক পাখি শিকার করে টিকে থাকা।
বর্তমানে স্কেলেটন কোস্টে এমন মরুভূমির সিংহ আছে মাত্র ১২টি, আর পুরো নামিবিয়ায় প্রায় ৮০টি।
ভ্যান মালডেরেন বলেন, “এই সিংহগুলো প্রমাণ করেছে প্রকৃতি কতটা সহনশীল। তারা শিখে নিয়েছে নতুনভাবে বাঁচতে—বালির মরুভূমি থেকে সমুদ্রের তীরে।”
গবেষক ফিলিপ স্ট্যান্ডার, যিনি ১৯৮০ সাল থেকে এই প্রজাতির ওপর কাজ করছেন, জানান—গামা হলো নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, যে সমুদ্রতটেই জন্ম নিয়েছে। এক রাতে সে ৪০টি সিল শিকার করতে পারে।
ভ্যান মালডেরেন বলেন, “গামাকে আমি প্রথম দেখি যখন তার বয়স ছিল তিন মাস। এখন সে এক দুর্ধর্ষ শিকারি। আমার ছবিটি তার প্রথম একক শিকারের মুহূর্তকে তুলে ধরেছে।”
২০১৫ সালের ভয়াবহ খরায় ওরেক্স, অস্ট্রিচ, স্প্রিংবকের মতো শিকার কমে গেলে সিংহগুলো বাধ্য হয় নতুন জায়গায় যেতে। সমুদ্রতীর হয়ে ওঠে তাদের নতুন বাসস্থান।
ভ্যান মালডেরেনের মতে, “জলবায়ু পরিবর্তন এই সিংহগুলোকে কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। তারা দেখিয়েছে—বাঁচতে হলে মানিয়ে নিতেই হয়।”
বর্তমানে গবেষকেরা ব্যবহার করছেন ‘ভার্চ্যুয়াল ফেন্সিং সিস্টেম’, যাতে সিংহ কোনো গ্রাম বা পর্যটন এলাকায় ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। প্রয়োজনে আতশবাজির শব্দে তাদের দূরে সরানো হয়।
ফিলিপ স্ট্যান্ডার বলেন, “যদি সঠিকভাবে রক্ষা করা যায়, এই সিংহগুলো আবার শক্তিশালী গোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারবে। তারা পৃথিবীর সবচেয়ে অনুর্বর জায়গায় বেঁচে থাকার প্রতীক।”
ভ্যান মালডেরেনের ভাষায়, “আমার ছবির উদ্দেশ্য শুধু সৌন্দর্য নয়—মানুষকে বোঝানো, প্রকৃতির এই প্রাণীগুলো কতটা নাজুক, আর তাদের টিকে থাকার গল্প আমাদেরও শেখায়—পরিবর্তনের মুখে টিকে থাকতে হলে অভিযোজিত হতে হয়।”