ঢাকার মেট্রোরেল এখন থেকে আরও দীর্ঘ সময় চলবে। আগামী রোববার (২০ অক্টোবর) থেকে দিনে এক ঘণ্টা বেশি সময় মেট্রোরেল চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মেট্রোরেলের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, নতুন সূচি অনুযায়ী সকালে বর্তমান সময়ের চেয়ে আধা ঘণ্টা আগে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, আর রাতে আধা ঘণ্টা বেশি সময় চলবে।
বর্তমানে সপ্তাহে ছয় দিন (শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার) উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। নতুন সূচিতে এটি সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে। সবশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টার পরিবর্তে রাত সাড়ে ৯টায়।
অন্যদিকে, মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টায়, যা বর্তমানে ছাড়ে সকাল সাড়ে ৭টায়। শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১০টা ১০ মিনিটে, যা আগে ছিল রাত ৯টা ৪০ মিনিটে।
শুক্রবার মেট্রোরেলের চলাচলও আধা ঘণ্টা এগিয়ে যাবে—এখন বেলা ৩টায় চলাচল শুরু হলেও, নতুন সূচিতে এটি বেলা আড়াইটায় শুরু হবে এবং রাতে আধা ঘণ্টা বেশি চলবে।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন,
“পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল সেবা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী রোববার থেকে দিনে এক ঘণ্টা বাড়তি সময় চালুর চেষ্টা চলছে। ট্রিপ বাড়াতে আরও কিছুদিন পরীক্ষামূলক চলাচল করতে হবে, তবে নভেম্বরের মাঝামাঝিতেই তা সম্ভব হবে।”
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করেন। নতুন সময়সূচি ও ট্রিপ সংখ্যা বাড়লে যাত্রীসংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ার) ট্রেনের মধ্যে ব্যবধান ৬ মিনিট, কম ব্যস্ত সময়ে ৮ মিনিট, আর একেবারে কম ব্যস্ত সময়ে ১০ মিনিট। আগামী মাসের মাঝামাঝিতে এটি কমে যথাক্রমে ৪, ৬ ও ৮ মিনিটে নামানো হবে।
বর্তমানে প্রতিদিন ২৩৮টি ট্রিপ পরিচালিত হয়। ট্রেনের ব্যবধান কমে গেলে ট্রিপ সংখ্যা বাড়বে এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমবে।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বাড়তি সময় ও ট্রিপ পরিচালনায় এখনকার ১২ সেট ট্রেনের পরিবর্তে ১৯ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের উদ্বোধন হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে। বর্তমানে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রী আরশাদুল হক বলেন,
“যানজটে জর্জরিত ঢাকায় মেট্রোরেলের সময় ও ট্রিপ বাড়ানো হলে তা যাত্রীদের জন্য অবশ্যই স্বস্তির হবে।”
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) মেট্রোরেল প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। মোট প্রকল্প ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
