
জনদুর্ভোগ রোধে রাস্তা অবরোধ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রতিদিনের অবরোধ ও বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গত রোববার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া যেন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে উপস্থাপন করার আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে সোমবার ও মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকের সময়ই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছিলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–কর্মচারীরা। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যৌক্তিক দাবিদাওয়া থাকলে তা নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের কাছে উপস্থাপন করার পরামর্শ দিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হতে পারে।
গত বছরের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজধানীতে বিভিন্ন দাবিদাওয়ায় একের পর এক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব বিক্ষোভের কারণে যমুনা, সচিবালয় ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে একাধিকবার যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, “আমাদের যদি কাজ করতে না দেন, তাহলে এই দুঃখ ঘোচানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। অনুরোধ করছি, আমাদের কাজ করতে দিন।”
তবে আন্দোলন থেমে থাকেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০৪টি সড়ক অবরোধ হয়েছে, যেখানে ১২৩টি সংগঠন বিভিন্ন দাবিতে অংশ নিয়েছে।
এদিকে গতকালও তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা। হাইকোর্টের সামনে গিয়ে তাঁদের কর্মসূচি বাধা দেয় পুলিশ। অন্যদিকে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করলে অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস হোসেন গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সরিয়ে নেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে—অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পরও কেন এত আন্দোলন চলছে। এক বাহিনীর প্রধান বলেন, “প্রতিদিনের অবরোধ সামলাতে আমাদের অতিরিক্ত জনবল ও সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জনদুর্ভোগ ঠেকাতে চাই এবং এখন মনোযোগ দিতে চাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে।”