
সন্তান জন্মের পর অনেক দম্পতির সম্পর্কেই টানাপোড়েন দেখা দেয়। নতুন দায়িত্ব, নিদ্রাহীনতা, ক্লান্তি, ও জীবনযাত্রার বড় পরিবর্তন অনেক সময় স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করে। কেন এমন হয় এবং কীভাবে এই অবস্থা সামলানো যায়, জেনে নিন—
১. নতুন দায়িত্বের চাপ
সন্তান জন্মের পর মা–বাবা দুজনেরই সময় ও শক্তি সন্তানের পেছনে চলে যায়। ফলে একে অপরের প্রতি সময় ও মনোযোগ কমে যায়।
২. বেবি ব্লুজ
মা হওয়ার পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেক নারীর মানসিক ওঠানামা ঘটে। এই “পোস্ট পার্টাম ব্লুজ” সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে।
৩. ‘ডিফল্ট প্যারেন্টিং’ বা একক দায়িত্ব নেওয়া
অনেক সময় মা একাই অধিকাংশ দায়িত্ব পালন করেন। এতে মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও সঙ্গীর প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়।
৪. যৌনজীবনে অসন্তোষ
ক্লান্তি, শরীরের পরিবর্তন ও ব্যস্ততার কারণে যৌনজীবনে দূরত্ব আসে, যা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকে প্রভাবিত করে।
৫. মতবিরোধ
সন্তান প্রতিপালনের পদ্ধতি বা পারিবারিক সিদ্ধান্তে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, যা ঝগড়ার কারণ হয়।
১. নতুন মাকে সহায়তা করুন
মায়ের ওপর থেকে চাপ কমাতে সঙ্গী ও পরিবারকে একসঙ্গে সাহায্য করতে হবে।
২. দায়িত্ব ভাগ করে নিন
সন্তানের যত্ন ও রাত জাগা—সব দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিন, যাতে ভারসাম্য থাকে।
৩. সন্তানের বিছানা আলাদা করুন
সন্তান আড়াই থেকে তিন বছর বয়সে আলাদা বিছানায় ঘুমাতে দিন—এটি দাম্পত্য সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনে।
৪. ফ্যামিলি টাইম রাখুন
প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা পরিবার নিয়ে হাসি–আনন্দে সময় কাটান।
৫. অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন
ভুল বোঝাবুঝি কমাতে একে অপরের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
৬. সম্মান ও সহানুভূতি দেখান
নতুন পরিস্থিতিতে পরস্পরের মানসিক অবস্থা বুঝে সহানুভূতিশীল হোন।
৭. ডেটে যান
সপ্তাহে এক দিন হলেও একান্ত সময় কাটান—সিনেমা, হাঁটা বা পছন্দের কিছু করুন।
৮. ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ব দিন
স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখে।
সন্তান জন্মের পর সময়টা কঠিন হলেও এটি সাময়িক। পরস্পরের সহানুভূতি, সময় ও ভালোবাসা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে।