জুলাই জাতীয় সনদে সই করার পরও কেন রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আমরা সনদে প্রস্তাবিত সংস্কার বিষয়ে একমত হয়েছি। তবে এখনো এর বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়নি এবং গণভোটের তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। তাই সনদে সইয়ের পরও মাঠের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।”
জামায়াত ও সমমনা সাতটি রাজনৈতিক দল পাঁচ দফা দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তাদের অন্যতম দাবি হলো—জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন।
এর আগে একই দাবিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুটি দফায় কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত ও সাতটি দল—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং নতুনভাবে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে ১৭ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে। পরদিন গণফোরামও এতে যুক্ত হয়। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও চারটি বাম দল সনদে সই করেনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “কেউ কেউ একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ভোটের জটিলতা তৈরি হবে এবং ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। একটি কেন্দ্রে সামান্য গোলযোগ বা মারামারিতে ভোট বন্ধ হলে গণভোটও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
বিএনপি যেখানে ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে, সেখানে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো নভেম্বরে পৃথকভাবে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়—
-
২০ অক্টোবর: রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
-
২৫ অক্টোবর: বিভাগীয় শহরে কর্মসূচি
-
২৭ অক্টোবর: জেলা শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, “একই দিনে দুটি ভোট আয়োজন জাতিকে বিভ্রান্ত করবে। তাই গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা দিনে হওয়া উচিত।”
