
রাজধানীর শেরেবাংলানগর এলাকার একটি বাসা থেকে নতুন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর এক নারী কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারী প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
শেরেবাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক জানান, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে জানা যায়, ওই নারী সম্প্রতি ঢাকা স্ট্রিমের বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে যৌননিপীড়নের অভিযোগকারীদের একজন ছিলেন। তবে এ বিষয়ে আলতাফ শাহনেওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি বা কোনো বার্তার জবাব দেননি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে যে, যাঁর বিরুদ্ধে যৌননিপীড়নের অভিযোগ ছিল, তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা স্ট্রিমের প্রধান সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে। পরে বিকেল চারটার দিকে মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক পি এম সজল আহমেদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি প্রকাশ করে ঢাকা স্ট্রিম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ জুলাই আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে, এরপর তাঁকে বার্তাকক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং একটি দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তাঁর কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়, যা কর্মীরা স্বাগত জানান।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, নিহত নারীর মৃত্যুর সঙ্গে আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই, এবং তিন মাস আগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।