
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন কমিশনের সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রতিনিধি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান, নির্বাচন কমিশনাররা ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কমিশন আসন্ন নির্বাচনের জন্য ১২টি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে।
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে—
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা,
ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখা,
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় স্থাপন,
অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহন নিয়ন্ত্রণ,
বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান,
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা রোধে কৌশল নির্ধারণ,
পোস্টাল ভোটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা,
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন পরিকল্পনা তৈরি,
অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ,
মাঠপর্যায়ের (অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা) নির্বাচন অফিসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী শান্তি–শৃঙ্খলা কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে হেলিকপ্টার সহায়তা এবং ভোটগ্রহণের সময় ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভোটগ্রহণের দিন ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।