
ছবি মুক্তি উপলক্ষে নানা রকমের প্রচারণা করে থাকেন নির্মাতা ও প্রযোজকেরা—সংবাদ সম্মেলন, ঘোড়ার গাড়ি, পোস্টার বা মাইকিং তো আছেই। তবে এবার এসেছে এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। ১৪ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘গোঁয়ার’ নামের সিনেমাটি। এ উপলক্ষে ছবির নায়ক রাসেল মিয়া নিজেই রান্না করছেন খাবার, যা বিতরণ করা হবে মানসিক ভারসাম্যহীন ও বয়স্ক রিকশাচালকদের মধ্যে।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার এফডিসির প্রধান ফটকের সামনে রান্নায় ব্যস্ত দেখা যায় রাসেল মিয়াকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিচালক রকিবুল আলম ও ছবির আরও কলাকুশলী। পাশে প্রজেক্টরে চলছিল ছবির ট্রেলার, আর চারপাশে টানানো ছিল ব্যানার—তাতে লেখা ছিল,
‘গোঁয়ার’ মুক্তি উপলক্ষে ১০ দিন থাকছে বিশেষ আয়োজন।
দুই টাকার বিনিময়ে খাবার পাবেন ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব রিকশাচালক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিরা।
সেখানে সামর্থ্যবান মানুষদের খাবার না নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়।
প্রথম দিনের আয়োজনে থাকছে চিকন চালের ভাত ও গরুর গোশত। রাসেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন,
“প্রচারণার একটা বাজেট থাকে। আমি প্রযোজককে বললাম—বাইরে রেস্টুরেন্টে আয়োজন করলে যত টাকা খরচ হবে, সেই টাকায় আমরা অসহায় মানুষদের খাওয়াতে পারি। প্রযোজক রাজি হন। এতে আমাদের প্রচারণাও হচ্ছে, আবার মানুষও খেতে পারছে।”
ছবির গল্প প্রসঙ্গে রাসেল মিয়া জানান,
“‘গোঁয়ার’ একটি গণমানুষের ছবি। এতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়েছে—গুলশানের নিঃসঙ্গ মানুষ থেকে শুরু করে গুলিস্তানের পথচারী, গার্মেন্ট কর্মী, রিকশাচালক—সবাই কোনো না কোনোভাবে এই ছবির অংশ।”
তিনি আরও বলেন,
“এখানে আমি একেবারে নতুন এক চরিত্রে অভিনয় করেছি—একজন সাইকোপ্যাথের ভূমিকায়। এটি আমার আগের কাজগুলো থেকে একদম আলাদা। আমি বিশ্বাস করি, ‘গোঁয়ার’ দর্শকদের মনে দাগ কাটবে।”
ছবিটি পরিচালনা করেছেন রকিবুল আলম এবং প্রযোজনা করেছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। রাসেল মিয়ার বিপরীতে রয়েছেন চিত্রনায়িকা জলি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, হেলেনা জাহাঙ্গীর ও বর্দা মিঠু প্রমুখ।