
আকাশপ্রেমীদের জন্য এ সপ্তাহে থাকছে এক চমৎকার মহাজাগতিক আয়োজন। বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে ওরিয়নিড উল্কাবৃষ্টি—যা প্রতিবছর অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেখা যায়। এবার এই উল্কাবৃষ্টির সঙ্গে দেখা মিলতে পারে আরও দুটি উজ্জ্বল ধূমকেতুর—লেমন (Comet C/2025 A6) ও সোয়ান (Comet C/2025 R2)।
আমেরিকান মেটিওর সোসাইটি জানিয়েছে, ওরিয়নিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত ২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেখা গেলেও, ২০ থেকে ২১ অক্টোবর রাতই এটি দেখার সেরা সময়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলে শহরের বাইরে কোনো অন্ধকার ও খোলা স্থানে যেতে হবে—যেমন গ্রাম, নদীর পাড় বা মাঠে। কারণ, শহরের আলোকদূষণ উল্কাগুলো দেখা কঠিন করে তোলে।
এবারের বিশেষ সুবিধা হলো—উল্কাবৃষ্টির সময় অমাবস্যা থাকবে, ফলে চাঁদের আলো আকাশে থাকবে না। এতে আকাশ হবে সম্পূর্ণ অন্ধকার, আর উল্কার রেখাগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
হেমন্তকালের সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর একটি হলো ওরিয়নিড উল্কাবৃষ্টি। এটি তৈরি হয় বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণা থেকে। ধূমকেতুটি সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় এর ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবী যখন এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সেসব কণিকা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষণের কারণে জ্বলে ওঠে—তখনই দেখা যায় উল্কার আলোর রেখা।
ওরিয়নিড উল্কাগুলো প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০টি পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। এরা অত্যন্ত দ্রুতগতির—সেকেন্ডে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার (৪১ মাইল) বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বড় উল্কাগুলো শুক্র গ্রহের চেয়েও উজ্জ্বল আলোকরেখা তৈরি করে, যেগুলোকে বলা হয় ‘অগ্নিগোলক’ (Fireball)।
ওরিয়নিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সেরা সময় হলো ২১ অক্টোবরের মধ্যরাতের পর। তবে সন্ধ্যা থেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে উল্কা ও দুটি ধূমকেতুর ঝলক দেখা যেতে পারে।
সূর্যাস্তের দেড় ঘণ্টা পর আকাশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে লেমন ও সোয়ান ধূমকেতু সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এগুলো খালি চোখেও দেখা সম্ভব, তবে দূরবিন ব্যবহার করলে দৃশ্যটি আরও মনোমুগ্ধকর হবে।