
জনপ্রশাসনে বদলি–পদায়নে ‘ভাগ–বাঁটোয়ারা’ হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানায় দলটি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন,
“জনপ্রশাসনে যেভাবে বদলি–পদায়ন হচ্ছে, তা নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মধ্যে প্রশাসন, এসপি–ডিসি ভাগ–বাঁটোয়ারা করছে। উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেও কেউ কেউ এতে সহায়তা করছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে চললে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই উপদেষ্টা পরিষদে যাঁদের বিরুদ্ধে অদক্ষতা, দুর্নীতি বা দলীয় পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গতকাল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকারকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানায়। আজ এনসিপির বৈঠক সেই ধারাবাহিকতার অংশ। বৈঠকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
বিএনপির দাবির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি জুলাই সনদের আওতাধীন। ঐকমত্য কমিশনে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণভোটের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্ভব নয়। যারা এখন এই দাবি তুলছে, তাদের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ।”
উপদেষ্টা পরিষদ পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা মনে করি, নিরপেক্ষ ও দক্ষ উপদেষ্টা পরিষদ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। তবে পুরো পরিষদ পরিবর্তনের সুযোগ নেই।”
ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“তারা কোনো দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, গণ–অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে আছেন। তবে উপদেষ্টা পরিষদের অন্য অনেক সদস্যেরও দলীয় সংশ্লিষ্টতা আছে। তাই পুনর্গঠন হলে সেটি সামগ্রিকভাবে করতে হবে।”
বৈঠকে জুলাই সনদ ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়েও আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন,
“আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি, কারণ এর বাস্তবায়ন নিয়ে নিশ্চয়তা পাইনি। আমরা চাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাংবিধানিক আদেশ জারি করুন, কারণ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বৈধতা তাঁর কাছেই রয়েছে, প্রেসিডেন্টের নয়।”
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি নির্বাচন কমিশনের আচরণে পক্ষপাতিত্ব দেখছে।
“নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বচ্ছভাবে কাজ করছে না। কিছু দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব, আবার কিছু দলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ দেখা যাচ্ছে। তাই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন,
“সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দায় সরকারের ওপরই আসবে। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন জরুরি।”
বৈঠকে বিসিএস নন–ক্যাডার বিধিমালা, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
নাহিদ ইসলাম জানান,
“প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।”