
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলায় পলাতক আসামিরা অংশ নিতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত করে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আরপিও সংশোধনের খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—বিভিন্ন মামলায় আদালত কর্তৃক পলাতক ঘোষিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
‘পলাতক’ বলতে কাকে বোঝানো হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“যখন আদালত কাউকে হাজির হতে বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তলব করা হয়, তবু তিনি হাজির না হলে আদালত তাঁকে পলাতক ঘোষণা করেন। সেই অবস্থায় কেউ বিচার চলাকালেও পলাতক থাকতে পারেন।”
এর আগে চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফরমাল চার্জ গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
গত বছর জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। এতে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের বহু নেতা বিচারাধীন আছেন। এদের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং আদালতের পক্ষ থেকে পলাতক ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন সংশোধনীর ফলে এসব মামলায় পলাতক ঘোষিত সাবেক মন্ত্রী–এমপি বা রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারাবেন।