
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের বহরী গ্রামে রয়েছে এক বিস্ময়কর জায়গা, যার নাম ‘এয়ারপোর্ট’। সেখানে নেই কোনো উড়োজাহাজ, রানওয়ে বা যাত্রীদের কোলাহল, তবু প্রায় ৫০ বছর ধরে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘এয়ারপোর্ট’ নামেই পরিচিত।
গ্রামটির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি তিন রাস্তার মোড়ে এই এলাকার অবস্থান। দক্ষিণে পিংড়াবাজার, পশ্চিমে মুন্সিরহাটবাজার আর উত্তরে বহরী আড়ংবাজার। উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের নথিতে জায়গাটির নাম ‘বহরী’ থাকলেও স্থানীয়রা একে চেনেন ‘এয়ারপোর্ট’ নামে।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সড়কের পাশে বহরী উচ্চবিদ্যালয়, তার সামান্য এগোলেই তিন রাস্তার সেই মোড়, যেখানে এখন গড়ে উঠেছে ছোট্ট এক বাজার।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, ১৯৭৫ সালের দিকে এই জায়গার নাম ‘এয়ারপোর্ট’ হয়ে যায়। বহরী গ্রামের এক রিকশাচালক খালেক বকাউল প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে তিন রাস্তার মোড়ে এসে বলতেন,
“প্লেন (রিকশা) চালাইয়া এয়ারপোর্টে আইসা নামলাম।”
তাঁর এই রসিকতা শুনে সবাই হাসতেন। পরে রফিক ঢালী নামের এক ব্যক্তি তালগাছে মজা করে ‘এয়ারপোর্ট’ লেখা একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। সেই থেকেই জায়গাটি এ নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে এবং আজও সেই নাম টিকে আছে অর্ধশতাব্দী ধরে।
এয়ারপোর্ট মোড়ে এখন রয়েছে কয়েকটি দোকান, একটি মসজিদ, একটি মহিলা মাদ্রাসা এবং পাশে বিস্তীর্ণ বিল। ‘খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা, এয়ারপোর্ট বাজার, বহরী’ লেখা সাইনবোর্ডও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৮০), আবদুল মান্নান (৭৫), মো. ইসমাইল (৬৫)সহ অনেকে বলেন, এয়ারপোর্ট নামটি এখন গ্রামবাসীর গর্বের বিষয়। এই নাম শুনে দূর-দূরান্তের মানুষ অবাক হয়, জানতে চায়—কোথায় উড়োজাহাজ!
উপাদী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহীদ উল্লাহ প্রধান বলেন,
“আমাদের ইউনিয়নের এয়ারপোর্ট জায়গাটি এখন অনেক পরিচিত। অনেকেই নাম শুনে অবাক হন। এটি আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।”
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন,
“উপজেলায় ‘এয়ারপোর্ট’ নামে একটি এলাকা আছে, বিষয়টি আমি জেনেছি। খুব শিগগির সেখানে গিয়ে সবকিছু সরেজমিনে দেখব।”