ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটিকে দলের অনেক নেতা ‘আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন কমিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অভিযোগ, এই কমিটিতে আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মীরা স্থান পেয়েছেন, আর দীর্ঘদিনের নিবেদিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়ার যৌথ স্বাক্ষরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট দুটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপি কমিটির ১১ নম্বর সহসভাপতি করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামানকে। ৫ নম্বর সহসভাপতি হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল ওহাব ওরফে পান্নু, ৪ নম্বর সহসভাপতি হয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও আওয়ামী লীগ পদধারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, ঘোষিত কমিটিতে অন্তত ৭৫ শতাংশ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পদধারী, কর্মী বা সমর্থক। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোশবুর রহমান বলেছেন, “এই কমিটি গঠিত হয়েছে কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দিয়ে, কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়নি।” নবগঠিত কমিটির তিন নম্বর সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া বলেন, নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বঞ্চনা করে এই কমিটি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় দিয়েছে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া বলেন, কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, একাধিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। যে কেউ প্রমাণ করতে পারলে যে কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের বর্তমান পদে রয়েছেন, তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে বাদ দেওয়া হবে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, “যাঁরা বিএনপির কমিটিতে গেছেন, কেউ হয়তো নিজে থেকে গেছেন, কেউ হয়তো জীবন বাঁচাতে বা সুবিধার কারণে গেছেন। অন্য দলের নেতা-কর্মীদের কমিটিতে নেওয়া রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় দেয়।”
