
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন-জেড (জেন–জি), নতুন রাজনৈতিক ভাষা হিসেবে রাস্তায় নেমেছে। মাদাগাস্কার থেকে পেরু, মরক্কো থেকে সার্বিয়া, নেপাল থেকে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশ—সবখানেই জেন–জি নেতৃত্বে আন্দোলন দেখা যাচ্ছে।
তাদের স্লোগান “আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদেরই” নানা কারণে। কোথাও সরকারি সেন্সরশিপ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কোথাও দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে। তারা প্রথাগত নেতা বা সংগঠনের ওপর নির্ভর না করে নেটওয়ার্ক ও প্রতীকের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করছে।
মাদাগাস্কারে বিদ্যুৎ–সংকট ও দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন হয়, সেনাবাহিনী গুলি চালাতে অস্বীকার করলে সরকার পতন ঘটে। পেরুতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বৈধতা সংকট তরুণদের রাজপথে নিয়ে আসে। সার্বিয়ায় পরিবেশ ও নির্বাচনী অনিয়ম, নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্সরশিপ-বিরোধী আন্দোলন—সবখানেই জেন–জি প্রজন্মের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
জেন–জি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ‘কানেকটিভ অ্যাকশন’। তারা টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস, ডিসকোর্ড, টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত সংগঠিত হয়ে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত করতে পারে। নেতাকেন্দ্রিক না হওয়ায় সরকারের গ্রেপ্তার বা দমনমূলক পদক্ষেপ কার্যকর হয় না, ফলে আন্দোলন অব্যাহত থাকে।
তবে এই আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা আছে। সরকারের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা রাজনৈতিক সংস্থার অন্তর্ভুক্তি না থাকায় আন্দোলনের অর্জন প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্থায়ী হয় না। বাংলাদেশের উদাহরণ দেখায়, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক দ্রুত জনসমাবেশে রূপ নিতে পারে, কিন্তু তথ্য নিরাপত্তাহীনতা বিপদ তৈরি করে।
বিশ্বব্যাপী জেন–জি আন্দোলনের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্ষোভের সূত্রপাত দেশভেদে ভিন্ন হলেও, প্রজন্মভেদে তারা এক সুরে “শোনা হোক, দেখা হোক, ভবিষ্যৎ নিরাপদ হোক” দাবি করছে। নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা—এই আওয়াজ উপেক্ষা করলে তরঙ্গ সুনামিতে রূপ নিতে পারে; কিন্তু সুযোগ দিলে এটি টেকসই গণতন্ত্রের নতুন জ্বালানি হতে পারে।