ভারতের কংগ্রেস দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আবারও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল নিজেই সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন, যা বিজেপি সরকার ২০২৪ সালে বাতিল করেছে।
আজ শুক্রবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে খাড়গে বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মত হলো—আরএসএসকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আরএসএসের আদর্শ সমাজে বিষ ছড়াচ্ছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার প্যাটেল ১৯৪৮ সালে আরএসএস ও জামাত-ই-ইসলামীর কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান মোদি সরকার ২০২৪ সালের ৯ জুলাই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কংগ্রেসের দাবি—এই নিষেধাজ্ঞা আবার চালু করা হোক।
🔹 প্যাটেল দিবসের দিনে খাড়গের মন্তব্য
আজ সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে বিজেপি সরকার “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” পালন করছে। সেই দিনে খাড়গে বলেন, “সরদার প্যাটেল দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। নেহরু তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু আরএসএস সেই ঐক্যের পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, সরদার প্যাটেল তাঁর এক চিঠিতে লিখেছিলেন, “আরএসএস মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু উদ্যাপন করেছিল এবং মিষ্টি বিতরণ করেছিল। তাই সরকার বাধ্য হয়েছিল সংগঠনটি নিষিদ্ধ করতে।”
🔹 বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। দলের নেতারা বলেছেন, কংগ্রেস এত বছর ধরে সরদার প্যাটেলের অবদানকে অবহেলা করেছে, এখন রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁর নাম ব্যবহার করে আরএসএসকে আক্রমণ করছে।
🔹 কর্ণাটকে একই বিতর্ক
সম্প্রতি খাড়গের নিজ রাজ্য কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের র্যালিতে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি ও রাজ্য সরকারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
খাড়গের মতে, “সরকারি চাকরিজীবীরা যদি ধর্মীয় বা চরমপন্থী সংগঠনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খাড়গে কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন—আরএসএসের কর্মকাণ্ড ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
