
এশিয়া কাপের ফাইনাল জয়ের এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ট্রফিটি পায়নি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ড আশা করছে, আগামী দুই দিনের মধ্যেই ট্রফিটি মুম্বাইয়ে তাদের সদর দপ্তরে পৌঁছাবে। তবে এর আগে যদি অচলাবস্থা না কাটে, তাহলে আগামী মঙ্গলবার আইসিসির ত্রৈমাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা করছে তারা।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয় করে ভারত। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারতীয় দল।
ভারতের আপত্তির কারণ ছিল, নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন, এবং ভারতের অভিযোগ—গত এপ্রিলে পেহেলগামে যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছিল, তাতে নাকভির মদদ ছিল।
ভারত ট্রফি গ্রহণে রাজি না হওয়ায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেটি প্রদান করা হয়নি। পরে নাকভির নির্দেশে ট্রফিটি নেওয়া হয় দুবাইয়ে এসিসির দপ্তরে। তবে সর্বশেষ জানা গেছে, ট্রফিটি সেখান থেকেও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আবুধাবির একটি অজ্ঞাত স্থানে, যার অবস্থান শুধুমাত্র নাকভিই জানেন।
এদিকে নাকভি শর্ত দিয়েছেন, ভারতীয় দলকে ট্রফি নিতে হলে এসিসির দপ্তরে উপস্থিত হয়ে তা সংগ্রহ করতে হবে। এই অবস্থার সমাধান না হওয়ায় বিসিসিআই এখনো অপেক্ষায় রয়েছে।
বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে বলেন, “এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও ট্রফি হাতে না পাওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ। তবে আমরা হাল ছাড়িনি। ১০ দিন আগে এসিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তাঁদের অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি। আশা করছি, এক-দুই দিনের মধ্যেই ট্রফিটি মুম্বাইয়ে এসে পৌঁছাবে।”
সাইকিয়া আরও জানান, “যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে আগামী মঙ্গলবার দুবাইয়ে আইসিসির সভায় বিষয়টি আমরা তুলব।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ভারতের জনগণকে আমি আশ্বস্ত করছি—ট্রফি একদিন না একদিন দেশে ফিরবেই। আমরা চ্যাম্পিয়ন, সেটি রেকর্ডে আছে; কেবল ট্রফিটিই এখন বাকি।”
এবারের এশিয়া কাপ ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল শুরু থেকেই। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। পরবর্তীতে ভারতীয় খেলোয়াড়েরাও ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেননি। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান দল পুরস্কার বিতরণী ও সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে।
উল্লেখ্য, আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ—যিনি এর আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ও এসিসির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।