
প্রথম আলো প্রকাশের ২৭ বছর পূর্তিতে স্মৃতিচারণ করলেন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক। তিনি reminisced সেই সময়ের গল্প, যখন সম্পাদক মতিউর রহমান একদল তরুণ সাংবাদিককে বলেছিলেন—“চলো, নতুন কিছু করি।” এই আহ্বান থেকেই জন্ম নেয় দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো।
১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ছাপাখানায় প্রথম কপি হাতে নেন সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানসহ অন্যরা। এর আগে ‘ভোরের কাগজ’-এর সম্পাদক হিসেবে মতি ভাই তাঁর সহকর্মীদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এক নতুন কাগজের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।
আনিসুল হক লেখেন, “মতি ভাই বলেছিলেন—এই কাগজ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ। এমনকি বিজ্ঞাপনদাতার বিরুদ্ধেও সত্য খবর প্রকাশিত হবে।” এই বিশ্বাস থেকেই শুরু হয় প্রথম আলো-এর যাত্রা।
তিনি আরও জানান, পত্রিকার প্রথম প্রস্তাবিত নাম ছিল ‘দৈনিক একুশে’। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় প্রথম আলো—একটি নাম যা এখন দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের অংশ। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আঁকেন বিখ্যাত সূর্যচিহ্নযুক্ত লোগো, যা আজও পত্রিকার পরিচয় বহন করে।
লেখায় আনিসুল হক স্মরণ করেন, মতিউর রহমানের সততা, শান্ত মনোভাব ও সমাজসেবায় নিবেদিত নেতৃত্বের কথা। র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া এই সম্পাদক তাঁর পুরস্কারের টাকা দান করেন অ্যাসিডদগ্ধদের সহায়তা, মাদকবিরোধী আন্দোলন ও সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলে।
প্রথম আলো ট্রাস্ট, বন্ধুসভা, সামাজিক উদ্যোগ—সবই গড়ে ওঠে এই চিন্তা থেকে যে, গণমাধ্যমের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
শেষে আনিসুল হক লেখেন,
“প্রথম আলোর ঘোষণাপত্র একটাই—বাংলাদেশের জয়। আমরা যা কিছুই করি না কেন, তার অভিমুখ যেন হয় বাংলাদেশের মঙ্গল ও মানুষের উপকার।”
আগামী ৪ নভেম্বর প্রথম আলো উদযাপন করবে তার ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।