
অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী। আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, “দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায়, সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আমরা আশা করছি, নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে।”
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচন কমিশনও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, “গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনী যে চ্যালেঞ্জের মুখে কাজ করেছে, তা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি খুব কমই এসেছে। তাই আমরাও চাই দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, যাতে আমরা আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ফিরতে পারি।”
তিনি জানান, সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। “সরকার যে রূপরেখা দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই আমাদের প্রস্তুতি চলছে,” বলেন তিনি।
এ সময় তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ব্যারাকের বাইরে থাকার কারণে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তবে নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সেনারা প্রস্তুত আছে।
বিভিন্ন মহলের অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সেনাবাহিনী এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমরা যথাযথভাবে পালন করব।”
সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে মাইনুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী মাঠে না থাকলে পরিস্থিতির অবনতি কতটা হতো, তা কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না। বন্যা, সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনী জনগণের পাশে ছিল এবং দায়িত্ব পালন করেছে।”