
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি।
আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেন ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের মূল তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি। প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালীন সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান, ফলে পরিস্থিতি তাঁর আয়ত্তের বাইরে চলে যায়।”
গত ২১ জুলাই বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান।
ঘটনার পরপরই অন্তর্বর্তী সরকার একটি ৯ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনকে দুর্ঘটনার কারণ, দায়-দায়িত্ব, ক্ষয়ক্ষতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিরূপণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে আইএসপিআর জানিয়েছিল, দুর্ঘটনার সময় যুদ্ধবিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক সমস্যার চেয়ে পাইলটের উড্ডয়নগত ত্রুটিই ছিল প্রধান কারণ।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনো চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী, নাভিদ, দীর্ঘ ৯৭ দিন চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি বাসায় ফিরেছেন।