
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই তরুণ রাজনীতিক দেখিয়েছেন—ট্রাম্পবাদের মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারা প্রতিরোধ করাও সম্ভব।
জোহরান মামদানি বেড়ে উঠেছেন ট্রাম্প যুগে। ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারণা তাঁকে সমাজতন্ত্রের দিকে আকৃষ্ট করে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জয়লাভের পর মামদানি ভোটারদের কাছে গিয়ে জানতে চান—কেন তাঁরা তাঁকে সমর্থন করলেন? সেই কথোপকথনই তাঁকে নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করে।
মামদানির প্রচার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। আলোঝলমলে প্রচারণা নয়, তিনি ব্রঙ্কসের রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি শুনেছেন তাঁদের জীবনের কষ্ট, দারিদ্র্য ও রাজনীতির প্রতি হতাশা। এই সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই তিনি রাজনৈতিক শক্তি খুঁজে পেয়েছেন।
বিশ্লেষকেরা প্রায়ই ট্রাম্প ও মামদানিকে তুলনা করেন, তবে তাঁরা দুই ভিন্ন আমেরিকার প্রতীক। ট্রাম্প প্রতিনিধিত্ব করেন ম্যানহাটানের দালানকোঠা আর ধনীশ্রেণিকে, অন্যদিকে মামদানি দাঁড়ান শ্রমজীবী, অভিবাসী ও বঞ্চিত নাগরিকদের পাশে।
বিজয় ভাষণে মামদানি বলেন, “যদি কেউ ট্রাম্পের বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষতবিক্ষত জাতিকে দেখাতে পারে কীভাবে তাকে পরাজিত করতে হয়, তবে সেই শহরই পারে, যে শহর ট্রাম্পকে তৈরি করেছিল।”
তাঁর নেতৃত্বে নিউইয়র্ক এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে—যেখানে জাতিগত বিভাজনের বদলে ঐক্য, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি দেখিয়েছেন, বামপন্থী রাজনীতি কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের শক্তিও হতে পারে।
যখন ইউরোপের অনেক সামাজিক গণতন্ত্রী ট্রাম্পের চরমপন্থার সামনে নতি স্বীকার করছেন, তখন মামদানি প্রমাণ করেছেন—মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, প্রতিরোধ সম্ভব।
‘মামদানি মডেল’ হয়তো এখন শুধু নিউইয়র্কে সীমাবদ্ধ, কিন্তু তার প্রভাব ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে আমেরিকার রাজনীতির প্রতিটি স্তরে।