পাকিস্তান সরকার শনিবার বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল সিনেটে উপস্থাপন করেছে। বিরোধীদল বলেছে, সরকার বিলটি দ্রুত পাস করাতে চাইছে এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ব্যাপ্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার ২৬ পৃষ্ঠার বিলটি উপস্থাপন করেন। বিল পাস হলে এটি ‘সংবিধান (২৭তম সংশোধনী) আইন, ২০২৫’ নামে পরিচিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সিনেটে তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা করেন।
সিনেটের চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি বিলটিকে উচ্চকক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠিয়েছেন যাতে তারা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে আলোচনা করে।
বিলের মূল বৈশিষ্ট্য:
-
একটি কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক আদালত (Federal Constitutional Court) গঠন।
-
উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন।
-
প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সীমা ১১% থেকে ১৩% বৃদ্ধি।
-
সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোতে পরিবর্তন, যেখানে সেনাপ্রধানকে ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয়েছে এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
-
কেন্দ্রীয় সরকার কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে বিশেষ পদে উন্নীত করলে আজীবন পদ ও সুবিধা প্রদান।
-
২৪৮ অনুচ্ছেদে সংশোধন করে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্বকালীন সময় ছাড়া আজীবন ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি।
বিরোধীদলী নেতা আলী জাফর ও আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস অভিযোগ করেছেন, সরকার বিলটি তাড়াহুড়া করে পাস করাতে চাইছে এবং এটি সংবিধানের ওপর আক্রমণ। তারা বলেন, বর্তমান আইনসভা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নয় এবং সংশোধনীগুলো বিচারব্যবস্থাকে ‘নিষ্ক্রিয় করার’ উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।
জেইউআই-এফ নেতা সিনেটর কামরান মুরতাজা বলেন, মাত্র ১৩ মাস আগে পাস হওয়া ২৬তম সংশোধনী কার্যত বাতিল করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পিপিপি ও আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির নেতারা বলেছেন, তারা জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক মতামত দেবেন এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন দেবেন।
এ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং সেনা ও বিচারব্যবস্থার কাঠামোর ওপর বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করছে।
