
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এক যুবক পিস্তলসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করেছেন। তবে দুই দিনেও পুলিশের কাছে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলা সদরে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে সংঘর্ষ ঘটে। ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবকের নাম শাহ মো. জাকারিয়া কাজী (২৫)। তিনি বোয়ালমারীর গুনবহা ইউনিয়নের উমরনগর গ্রামের মঞ্জুর কাজীর ছেলে, উপজেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি। জাকারিয়া ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।
বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, ভিডিও ও ছবি দেখা গেছে, তবে আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বস্তু বহনকারী যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি। শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই পক্ষের সংঘর্ষে শামসুদ্দিন মিয়া ও খন্দকার নাসিরুল ইসলাসহ দুই নেতা স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্বে ভোট-প্রার্থীর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী। সংঘর্ষে বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আহত হয়েছেন তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৩ জন।
উভয় পক্ষের নেতা ও সমর্থকদের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। নাসিরুলপন্থীদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন, যেখানে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০০–৪০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। শামসুদ্দীনপন্থীদের পক্ষে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাদী হয়ে অপর মামলা করেছেন, যেখানে ১৮৮ জনের নাম ও আরও ২০০–২৫০ জন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”