
শৈশবের এক স্মৃতি দিয়ে শুরু হয় গল্পটি—এক প্রতিভাবান মেয়ের, যার কণ্ঠে মফস্বল কেঁপে উঠেছিল। সবাই ভাবত, একদিন সে বড় গায়িকা হবে। কিন্তু প্রেম, সমাজ, আর তথাকথিত ‘সম্মান’-এর চাপে তার গান থেমে গেল চিরতরে। একসময় যে মেয়ের গানে পাড়া জেগে থাকত, সে হয়ে গেল নীরব।
এই গল্প শুধু একজন মেয়ের নয়—পুরো সমাজের প্রতিচ্ছবি। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে হারমোনিয়ামের সুর, আবৃত্তির কণ্ঠ, নাট্যমঞ্চের আলো। আজকের সমাজে সৃজনশীলতা যেন ‘অসম্মানের’ প্রতীক। পরিবার, রাষ্ট্র, এমনকি শিক্ষাব্যবস্থাও শিল্পচর্চাকে রাখছে প্রান্তিক অবস্থানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা, সংগীত, বা চিত্রকলার বিভাগ এখনো উপেক্ষিত। অথচ চেখভ, বাদল সরকার, শহীদুল জহিরদের মতো সৃজনশীল মেধা তৈরি হয় এমন পথ থেকেই। রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণে সৃজনশীল শিল্পীরা হয়ে পড়েছেন অনিশ্চিত, ভীত, হতাশ।
অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে সংস্কৃতির নতুন ভাষা গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো—কট্টরপন্থীদের উত্থান, শিল্পীদের ওপর হামলা, নিষেধাজ্ঞা, বাজেট সংকোচন, আর রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা সংস্কৃতি অঙ্গনকে করে তুলেছে নিস্তব্ধ।
আজকের বাংলাদেশে সুর, লাবণ্য, আর মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই হিংস্রতার দিকে ঝুঁকছে, মাদক ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কারণ, সমাজ তাদের দিয়েছে ভয়, কিন্তু দেয়নি আলো।
তবুও আশার কথা আছে—ইতিহাস বলছে, সৃজনশীলতার পথ কখনো মসৃণ ছিল না। শিল্পীদেরই এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে—সম্মিলিতভাবে, সাহসিকতায়। কারণ, দুর্বলেরা টিকে থাকে না। আর এই লড়াই শুধু শিল্পের নয়, এটি অস্তিত্বের লড়াই।
শেষ কথা:
“হে বন্ধু, হে আলোর পথযাত্রী—এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না…”