
সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করাসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দিন ধরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে দেশের বহু বিদ্যালয়ে চলছে কর্মবিরতিও, যা শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে পাঠদানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষকদের এই টানা আন্দোলনের কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতি বিঘ্নিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।
বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি এবং শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখেরও বেশি। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি হলেও কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন। অর্থাৎ ১৭ হাজারেরও বেশি পদ এখনো শূন্য।
রাজধানীর লালবাগ শিক্ষা এলাকার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার কর্মবিরতি প্রায় সব বিদ্যালয়েই কার্যকর হয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি। সহকারী শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন না, ফলে প্রধান শিক্ষক নিজেই কিছু ক্লাস নিচ্ছেন।
আজ সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এতে তাঁদের বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার এক নারী সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘বাচ্চাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে—এটা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। কিন্তু দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।’
অন্যদিকে, জামালপুরের মেলান্দহের এক শিক্ষক জানান, গত শনিবার থেকে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এ অবস্থায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন এবং এ নিয়ে সময় চাওয়া হয়। তবে শিক্ষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হননি।
আজ সোমবার বিকেলে অর্থ বিভাগের সচিবের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি জানাবেন।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১️⃣ সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা,
২️⃣ শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা, এবং
৩️⃣ চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে, আর প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে আছেন। সম্প্রতি ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১০ম ধাপে উন্নীত হওয়ায়, তা দেশের সব প্রধান শিক্ষকের জন্যও কার্যকর হতে যাচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় বেতন স্কেলে ১০ম গ্রেডে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা, ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে—এর সঙ্গে ভাতা যোগ হয়।
📍সংক্ষেপে:
তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে প্রাথমিক শিক্ষার মান ও চলমান শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে।