জম্মু-কাশ্মীরে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর বিষয়ে শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং বিরোধী দল বিজেপি ও উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব এখনই রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর বিষয়ে কার্যত কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।
কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন, রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে যদি তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়, তিনি তা করতে প্রস্তুত। তবে উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার বক্তব্য ছিল, নির্বাচিত সরকার যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তা রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর অজুহাত হতে পারে না।
সম্প্রতি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির সুনীল শর্মা। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে ওমর আবদুল্লাহ বিজেপির সঙ্গে সরকারের অংশীদার হতে প্রস্তুত ছিলেন, যদি পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত দেওয়া হয়।
এই দাবির জবাবে ওমর আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, পবিত্র কোরআনের শপথ নিয়ে তিনি কখনো বিজেপির সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেননি। তিনি সুনীল শর্মার বক্তব্যকে মিথ্যা আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, বেঁচে থাকার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মোদি সরকার ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরকে দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। কেন্দ্রীয় সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরও রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর পুলওয়ামা–কাণ্ড ও ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘটে। এই পরিস্থিতিতে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, কেন্দ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাশ্মীরি জনগণই তার ক্ষতিপূরণ ভোগ করছে।
এনসি ও ওমর আবদুল্লাহ বিজেপির বিরোধিতার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার ও উপরাজ্যপাল প্রতিনিয়ত নির্বাচিত সরকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আগে মেহবুবা মুফতির দল পিডিপির সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপি সরকারের অংশ ছিল, পরবর্তীতে জোট ভেঙে রাষ্ট্রপতির শাসন আরোপ করা হয় এবং রাজ্য দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়।
