
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দীর্ঘ নয় মাস আপনারা (সরকার) সংস্কারের নামে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন এবং অনেক বিষয়ে একমত হয়েছেন। কিন্তু সেই একমত হওয়া বিষয়গুলোর বাইরে গিয়ে যদি গায়ের জোরে কিছু চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে সব দায়দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।”
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, নামাজ, রোজা, সততা আর ন্যায়ের মাধ্যমে বেহেশতের পথ তৈরি হয়। জামায়াতের টিকিট কাটলেই কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।”
পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) ভোট পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে এ দেশের মানুষ পরিচিত নয়। আমরা এটি গ্রহণ করব না। জামায়াত বলছে, পিআর পদ্ধতিতেই ভোট করতে হবে—কেন ভোটকে এত ভয় পাচ্ছ? কারণ, তারা জানে ভোট হলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
এনসিপি প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ওরা তো ভোটেই পাবে না। এই কারণে ওরাও জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছে, পিআর পদ্ধতি আনতে হবে, সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এগুলো শুধুই বিভ্রান্তি। আমরা যে সংস্কারে একমত হয়েছি, বিএনপি শুধু সেটির পক্ষে থাকবে, অন্য কিছুর দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শেখা জরুরি। এতে কোনো অসুবিধা নেই, বরং তারা ভালো কিছু শিখবে।”
নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। দেশের সামনে এখন একটি সুযোগ এসেছে—সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক সরকার গঠন করতে হবে।”
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন কর্মসূচি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছে, আর ঢাকায় গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। যারা দেশের সম্পদ নষ্ট করছে, তাদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। সাহস থাকলে জনগণের সামনে আসুন, দিল্লিতে বসে দেশের সর্বনাশ বন্ধ করুন।”
মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদসহ জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।