কয়েক দিন আগেও শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নীতীশ কুমারই আবারও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। গণনার সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী, ২৪৩ আসনবিশিষ্ট বিহার বিধানসভায় এনডিএ জোট দুই শতাধিক আসনে বিজয়ী হওয়ার পথে।
বুথফেরত সমীক্ষায় এত বড় জয়ের ইঙ্গিত না থাকলেও বাস্তবে নীতীশের ভাবমূর্তি ২০ বছর পরও অমলিন রয়েছে। ২০১০ সালে জেডিইউ–বিজেপি জোট পেয়েছিল ২০৬ আসন; এবারও এনডিএ প্রায় একই সংখ্যক আসনে জয়লাভ করতে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি একের পর এক বড় জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে—মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং এবার বিহার। বিরোধীদের সব অভিযোগ সত্ত্বেও এনডিএর প্রতি ভোটারদের সমর্থন অটুট রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন করে ৪৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ায় বিরোধীরা অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তবুও গণনার চিত্র বলছে, আরজেডি–কংগ্রেস মহাজোট সেই অভিযোগে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
গতবারের তুলনায় এবার বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। আরজেডির আসন ৭৫ থেকে নেমে ২৫, কংগ্রেসের ১৯ থেকে নেমে ৩ এ পৌঁছেছে। বিপরীতে বিজেপি ৯৫ এবং জেডিইউ ৮২ আসনে জয়ের পথে। এলজেপিও ২০টি আসন পেতে চলেছে।
এনডিএর বড় জয়ের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:
-
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব
-
এলজেপিকে জোটে টেনে আনা
-
‘নারী রোজগার যোজনা’র মাধ্যমে ১ কোটি ৩৭ লাখ নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার রুপি জমা
এই কর্মসূচির ফলে নারীরা জাতপাতের বিভাজন ভেঙে এনডিএকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে। ফলে জেডিইউয়ের আসন ৪৩ থেকে বেড়ে ৮০-এর বেশি হয়েছে।
বিজেপি প্রচারে বলেছিল, এবার তাদের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে। তবে এই বিশাল জয়ের পর নীতীশ কুমারকে এড়িয়ে যাওয়া বিজেপির জন্য অসম্ভব। কেন্দ্রের ওপরও জেডিইউয়ের প্রভাব থাকায় নীতীশকে উপেক্ষা করা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিহারের সাফল্যের পর নির্বাচন কমিশন অন্য রাজ্যেও ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনায় দ্রুততা আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, পদুচেরি ও আসামে নির্বাচন, আর বিহারের ফল বিজেপিকে আরও উৎসাহিত করবে।
