
আমরা সবাই বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচক নয়, এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও ন্যায্যতার মাপকাঠিতেও পরিমাপ করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে অংশীজনদের মধ্যে নিয়মিত গোলটেবিল বৈঠক ও যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। কারণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের মূল দর্শন হলো “কাউকে পেছনে ফেলে নয়” (Leave No One Behind)।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে অংশীজনের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর তুলে ধরার লক্ষ্যে নিয়মিত গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন একত্রিত হন, যাতে তাদের অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ ও সুপারিশের মাধ্যমে কার্যকর দিকনির্দেশনা তৈরি করা যায়।
গত এক বছরে প্রথম আলো অর্ধশতাধিক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করেছে। এর মধ্যে শিশু অধিকার, নারী অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ, মানবাধিকার, তথ্যপ্রযুক্তি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, তারুণ্যের সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বৈঠকের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতা সংযোগ ঘটানো এবং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যেমন ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, ওয়াটারএইড, ব্র্যাক, একশনএইড, ক্রিশ্চিয়ানএইড, কেয়ার, অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন ইত্যাদির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। তাদের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা গোলটেবিল বৈঠকগুলোকে বাস্তবমুখী করেছে।
প্রথম আলো এই আলোচনা ও সুপারিশগুলো প্রতিবেদন ও ক্রোড়পত্র আকারে প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যম অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করে, নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনে এবং জনমত গঠনে সহায়তা করে।
প্রথম আলো পূর্বে ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও, সম্প্রতি আঞ্চলিক পর্যায়ে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও খুলনায় চারটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করেছে। এই আঞ্চলিক কার্যক্রমে যুব অধিকার, নারী অধিকার ও সুশাসন সংক্রান্ত সংলাপ ও টাউন হল সমাবেশের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ও উৎসাহ অভূতপূর্ব। প্রথম আলো ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চায়।