মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে রেকর্ড আর উদ্যাপনে ভরে উঠেছে বাংলাদেশ দল। দিনের শুরুতে তাইজুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরলেন মুশফিকুর রহিম—টেস্টে দেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির আসনে ওঠার আনন্দে। দুজনের মুখে উচ্ছ্বাস, চারপাশে সতীর্থদের উল্লাস—এই দৃশ্যই হয়ে উঠল মিরপুর টেস্টের প্রতীকী মুহূর্ত।
ম্যাচের ফলের চেয়ে দিনজুড়ে আলোচনা বেশি হয়েছে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে। নিজের শততম টেস্টে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি ও দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে নাম তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। লিটন দাসও করেছেন সেঞ্চুরি। আর সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে দেশের সেরা টেস্ট উইকেটশিকারি হয়েছেন তাইজুল ইসলাম।
এদিকে ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত। চতুর্থ দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের হাতে আছে মাত্র ৪ উইকেট, আর জিততে প্রয়োজন ৩৩৩ রান—অর্থাৎ ‘মিরাকল’ ছাড়া তাঁদের পথ নেই।
সকালে বাংলাদেশের ব্যাটিং, ব্যক্তিগত সাফল্যের দৌড়
দিনের শুরুতে ৩৬৭ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দুটো দ্রুত উইকেট পড়ে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও মুমিনুল হক ৮৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে শক্ত অবস্থানে ফেরান। মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৫৩ রানে। এরপরই অধিনায়ক নাজমুল ইনিংস ঘোষণা করেন।
মুশফিক যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি মিস করেছেন, তবে একটা রেকর্ড তাঁরই—শততম টেস্টে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশের বেশি করেছেন শুধু তিনিই এবং রিকি পন্টিং।
তাইজুলের ইতিহাস, আয়ারল্যান্ডের পতন
৫০৯ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড দ্রুতই চাপে পড়ে। দলের মাত্র ২৩ রানে এলবিডব্লু হন অ্যান্ডি বলবার্নি—এই উইকেটেই তাইজুল সাকিবকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যান (২৪৭ উইকেট)।
বাকি সময়টায় তাইজুল ও হাসান মুরাদ মিলে আইরিশদের নাজেহাল করেন। দিনের শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ধসে পড়া ইনিংস। কেবল হ্যারি টেক্টর হাফ সেঞ্চুরি করেন।
শেষ দিনে বাংলাদেশের অপেক্ষা শুধু সময়ের—আয়ারল্যান্ডের হাতে থাকা ৪ উইকেট আর অসম্ভব লক্ষ্যই বলে দিচ্ছে মিরপুরে জয়ের মুখ দেখার অপেক্ষা খুব বেশি বাকি নয়।
