হাসান মুরাদের ডেলিভারিতে ম্যাথু হামফ্রিস বোল্ড হতেই মিরপুরে শুরু হয় বাংলাদেশের জয়ের উচ্ছ্বাস। শেষ উইকেট তুলে নেওয়ার পরই সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেন লিটন দাস–মুশফিকুর রহিমও। আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কার্টিস ক্যাম্ফারের অনবদ্য ধৈর্য ও দক্ষতার জন্য তাঁরা তাকে অভিনন্দন জানান—যা তিনি নিঃসন্দেহে প্রাপ্য ছিলেন।
মিরপুরে পাঁচ দিনের ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই ফল যে দিকে যাচ্ছিল, সেটিই হয়েছে। আয়ারল্যান্ডকে ২১৭ রানে হারিয়ে ম্যাচের সঙ্গে সিরিজও ২–০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শেষ ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময় অস্বস্তিতে রাখেন ক্যাম্ফার।
শেষদিনে হাতে মাত্র ৪ উইকেট নিয়েও আয়ারল্যান্ড ৫৯.৩ ওভার ব্যাট করে। একাই ১৬৬ বল মোকাবিলা করেন ক্যাম্ফার, ছিলেন অপরাজিত। চতুর্থ ইনিংসে সফরকারী দলের সর্বোচ্চ রান এবং সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডও গড়ে ফেলে তারা। ২৯১ রানের ইনিংস মিরপুরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চতুর্থ ইনিংস স্কোর।
শেষ দিনের লড়াই
৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল আয়ারল্যান্ড। ক্যাম্ফারের সঙ্গী ছিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। ২১ রানে তাঁকে এলবিডব্লিউ করে দিনটি শুরু করেন তাইজুল ইসলাম—যিনি এদিন টেস্টে নিজের ২৫০তম উইকেট নেন।
এরপর জর্ডান নিল ও ক্যাম্ফারের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আট উইকেট যাওয়ার পরও প্রথম সেশনে আর উইকেট না পড়ে আয়ারল্যান্ড ম্যাচকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়। ক্যাম্ফার–হোয়ে জুটি পেরোয় ১৯০ বল।
অবশেষে ১৯১তম বলে হাসান মুরাদের এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন হোয়ে (৩৪)। শেষ ব্যাটসম্যান হামফ্রিস প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গেলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।
ক্যাম্ফারের নজরকাড়া ইনিংস
২৫৯ বল খেলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যাম্ফার। আইরিশদের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ বল খেলার রেকর্ড এটি। মিরপুরের চতুর্থ ইনিংসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আড়াই শ বল খেলার নজিরও গড়েন তিনি।
ম্যাচ ও সিরিজের সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের নিশ্চিত জয় কিছুটা দেরিতে এলেও তা ছিল দারুণ প্রাপ্য। ম্যাচ শেষে ক্যাম্ফারকে অভিনন্দন জানান মুশফিক–লিটনরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৭৬ ও ২৯৭/৪ ডিক্লেয়ার
আয়ারল্যান্ড: ২৬৫ ও ২৯১
ফল: বাংলাদেশ ২১৭ রানে জয়ী
সিরিজ: বাংলাদেশ ২–০
ম্যাচসেরা: মুশফিকুর রহিম
সিরিজসেরা: তাইজুল ইসলাম
