সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম এবং তাঁর স্ত্রী দেওয়ান আলেয়ার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। এটি হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। আজ রোববার এই আদেশ দেন জজ সাব্বির ফয়েজ।
আদালতের সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দুদকের পক্ষে পৃথক দুটি আবেদন করেন সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান।
মির্জা আজমের বিরুদ্ধে করা আবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির নামে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা, এবং মেয়ে আফিয়া আজমের নামে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭ টাকা। এছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
দেওয়ান আলেয়ার বিষয়ে করা আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে ৭২৫ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার ২৩২ টাকা জমা এবং ৭২৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৭১৫ টাকা উত্তোলন করেছেন। এই অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে তাকে দুদক আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত মির্জা আজম ও দেওয়ান আলেয়ার সব আয়কর নথি, স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ ও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
