
মধ্য ইউরোপের ছোট দেশ লিখটেনস্টাইন। চারদিকে স্থলসীমাবেষ্টিত এই দেশটি অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মাঝখানে অবস্থিত। এটি একটি সমৃদ্ধ সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, যেখানে রাজপুত্র শাসন করেন দেশটিকে। উচ্চ মাথাপিছু আয়, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কম অপরাধ এবং উন্নত শিল্প অর্থনীতির জন্য লিখটেনস্টাইন বিশ্বে পরিচিত। সরকারি ভাষা জার্মান, রাজধানী ভাদুজ এবং মুদ্রা সুইস ফ্রাঁ। মাত্র ৬২ বর্গমাইল আয়তনের দেশটি বিশ্বের ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র।
এ দেশে কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই। নিকটতম বিমানবন্দর সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেন–আলটেনরাইন ও জার্মানির ফ্রিডরিখশাফেন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক জুরিখ বিমানবন্দর। সেখান থেকে ট্রেন বা বাসে বুচস বা সারগানস হয়ে পোস্টাল বাসে লিখটেনস্টাইন পৌঁছানো যায়।
ফ্রেঞ্চ রিভেইরার কোলে অবস্থিত আভিজাত্যপূর্ণ রাজ্য মোনাকো—ক্যাসিনো, বিলাসবহুল জীবন ও বিখ্যাত গ্রাঁ প্রির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। জাতিসংঘের সদস্য হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়; তবে ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করা হয়।
মোনাকোতে কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই। ফ্রান্সের নিস কোত দা’জুর বিমানবন্দর সবচেয়ে কাছের। সেখান থেকে ট্রেন, বাস বা সড়কপথে সহজেই পৌঁছানো যায়। চাইলে হেলিকপ্টারেও যেতে পারেন।
ইতালির রোমের ভেতরে অবস্থিত ভ্যাটিকান সিটি—রোমান ক্যাথলিক চার্চের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা, ভ্যাটিকান মিউজিয়াম ও সিস্টাইন চ্যাপেলসহ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা এই নগররাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করেছে।
নিকটতম বিমানবন্দর রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর। সেখান থেকে ট্যাক্সি, বাস কিংবা মেট্রোতে সহজেই ভ্যাটিকান সিটিতে যাওয়া যায়।
চারদিকে ইতালির স্থলসীমায় ঘেরা পর্বত রাষ্ট্র সান ম্যারিনো, যা ৩০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। রাজধানী সিটা ডি সান ম্যারিনো তার মধ্যযুগীয় সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। পর্যটন দেশের প্রধান আয়ের উৎস।
এখানে কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই। নিকটতম বিমানবন্দর রিমিনি ও বোলোনিয়ার। সেখান থেকে গাড়ি বা বাসে সান ম্যারিনো পৌঁছানো যায়।
স্পেন ও ফ্রান্সের মাঝখানে পিরিনিজ পর্বতমালায় অবস্থিত অ্যান্ডোরা। মনোরম পাহাড়, স্কি রিসোর্ট এবং ডিউটি-ফ্রি শপিংয়ের জন্য বিখ্যাত। সরকারি ভাষা কাতালান, রাজধানী অ্যান্ডোরা লা ভেলা—ইউরোপের সর্বোচ্চ উচ্চতার রাজধানী।
এ দেশে কোনো বিমানবন্দর নেই। স্পেন ও ফ্রান্সের নিকটবর্তী বিমানবন্দরগুলো থেকে সড়কপথে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে অ্যান্ডোরায় যাওয়া যায়।