
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নে এক যুবককে দ্বিতীয়বার বিয়ে করায় শিকলবন্দী করে রেখেছে তাঁর প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা। ২৪ বছর বয়সী ওই যুবককে টানা পাঁচ দিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর যুবকের বাবা থানায় অভিযোগ করেছেন।
প্রথম স্ত্রী জানান, তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর স্বামী তাঁর খোঁজখবর নিতেন না। পরে জানতে পারেন স্বামী গোপনে আরও দুটি বিয়ে করেছেন।
তিনি বলেন, “স্বামী আমাকে না জানিয়ে দুই বিয়ে করেছে। তাই কৌশলে ডেকে এনে শিকল দিয়ে বেঁধেছি। স্ত্রী হিসেবে নিজের অধিকার ফিরে পেতেই এটা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, বিয়ের সময় এক ভরি সোনা, এক লাখ টাকা ও আসবাবপত্র যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়। অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তিনি বাবার বাড়িতে এসে থাকেন।
শিকলবন্দী যুবক জানান, বিয়ের তিন বছর পরও সন্তান না হওয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়। স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। তিনি স্বীকার করেন যে এক–দেড় মাস আগে তিনি আরও একটি বিয়ে করেছেন। এরপরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ধরে এনে মারধর করে শিকলবন্দী করে রাখে।
শিকলবন্দী যুবকের বাবা বলেন, গত বৃহস্পতিবার ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে গিয়ে তিনি দেখেন, ছেলে শিকলে বাঁধা। তিনি হাতিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন।
হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান জানান, অভিযোগ হয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে।
জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।