ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এবং হত্যার পর মরদেহের সঙ্গে একটি সেলফি তুলে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস হিসেবে আপলোড করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়েছে এবং রাজ্যজুড়ে নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
হত্যাকারীর পরিচয় ও পেছনের কারণ
৩২ বছর বয়সী বালামুরুগান তাঁর স্ত্রী শ্রীপ্রিয়া (২৮) এবং তিন সন্তানকে নিয়ে তিরুনেলভেলির বাড়িতে থাকতেন। কয়েক মাস আগে দাম্পত্য কলহের কারণে শ্রীপ্রিয়া আলাদা হয়ে কোয়েম্বাটোরের একটি মহিলা হোস্টেলে ওঠেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার দুপুরে বালামুরুগান হোস্টেলে গিয়ে শ্রীপ্রিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর জামার নিচে কাস্তে লুকানো ছিল। দেখা হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বালামুরুগান কাস্তে বের করে শ্রীপ্রিয়াকে হত্যা করেন।
মরদেহের সঙ্গে সেলফি ও গ্রেপ্তার
হত্যার পর বালামুরুগান শ্রীপ্রিয়ার মরদেহের সঙ্গে একটি সেলফি তুলেছেন এবং সেটি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে আপলোড করেছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে তিনি ঘটনাস্থলেই আটক হন। হত্যায় ব্যবহৃত কাস্তেও উদ্ধার করা হয়েছে।
পেছনের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বালামুরুগান সন্দেহ করতেন যে তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। দাম্পত্য কলহ চলছিল, যা এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে পুলিশ ধারণা করছে।
ঘটনাটি তামিলনাড়ুতে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নারীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। যদিও সরকার ও রাজ্য পুলিশ দাবি করেছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং সব ধরনের ঘটনার দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
