দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলা তার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। এ উপলক্ষে বন্দরের কর্তৃপক্ষ প্লাটিনাম জয়ন্তী উদ্যাপন করে। সোমবার দুপুর ১২টায় বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান।
উদ্যাপন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
মোংলা বন্দর দিবস উপলক্ষে বন্দরের ভবনের সামনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। পরে বন্দরের জেটিতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয় এবং সেরা কর্মীদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বন্দর ইতিহাস
মোংলা বন্দর ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনার চালনা এলাকায় যাত্রা শুরু করলেও মাত্র তিন বছরের মধ্যে বাগেরহাটের মোংলায় স্থানান্তরিত হয়। ১১ ডিসেম্বর ১৯৫০ সালে ব্রিটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ ‘দ্য সিটি অব লিয়নস’ আগমনের মধ্য দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৭৭ সালে এটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ’ নামে পরিচিতি লাভ করে এবং ১৯৮৭ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ’ রাখা হয়।
কার্গো ও অর্থনৈতিক সাফল্য
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৪ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭.২৫% বেশি। কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২১,৪৫৬ টিইইউজ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭.২৮% বেশি। বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, নিট মুনাফা ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান জানান, প্রথম পাঁচ মাসে বন্দরে এসেছে ৩৫৬টি জাহাজ। কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩,৮৫৪ টিইইউজ এবং গাড়ি আমদানি ৪,১৩৯টি। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ফলে প্রতি ঘণ্টায় ২৪টির বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হচ্ছে। মোংলা বন্দরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর ট্রানজিট পণ্য আমদানি-রপ্তানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে মোংলা বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বন্দরের আধুনিকীকরণ ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প চলছে।
