
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আগামী সপ্তাহেই ঘোষিত হতে পারে। এর আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের দুই তরুণ উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। তাঁরা ভোটে অংশ নিতে সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন, নাকি দায়িত্বে থেকে যাবেন—এ বিষয়ে এখনো কেউই স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের ভোটার ছিলেন। তবে ৯ নভেম্বর তিনি ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) আসনের ভোটার হওয়ার আবেদন করেন এবং সাংবাদিকদের জানান—ঢাকা থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
এনসিপি, বিএনপি কিংবা স্বতন্ত্র—কোন পথে তিনি যাবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে তাঁর সমর্থকদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম—যেমন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল, জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা—এসব বিষয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিএনপির প্রতি তাঁর ঝোঁক বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দলের ভেতরেও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এনসিপির ছাত্র সংগঠনের নবঘোষিত কমিটিতে আসিফের অনুসারীদের জায়গা না পাওয়ায় তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির বিরুদ্ধে সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন।
একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আসিফ মাহমুদ তফসিল ঘোষণার আগেই উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এনসিপিতে তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, বরং বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা কিংবা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার দিকেই তিনি ঝুঁকছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এখনও সিদ্ধান্তহীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “আমি এ বিষয়ে এখনো কিছুই জানি না।”
তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে তিনি নির্বাচন করতে পারেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তাঁর ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম এলাকায় সক্রিয় থাকায় রাজনৈতিক গুঞ্জন আরও জোরালো।
ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে—
যদি মাহফুজ আলম নির্বাচন করেন, তাহলে তফসিলের আগেই পদত্যাগ করবেন।
আর যদি পদত্যাগ না করেন, তবে সরকারে দায়িত্ব পালন করেই বর্তমান মেয়াদ শেষ করতে পারেন।
বিএনপি এখনো লক্ষ্মীপুর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, যা অনেকের মতে মাহফুজ আলমকে মাথায় রেখেই হতে পারে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুই উপদেষ্টাকে বারবারই পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—সেপ্টেম্বরে, এরপর আরও কয়েক দফায়। এবার নির্বাচনের তফসিলের আগেও একই পরামর্শ এসেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এনসিপি নিজেই তৃতীয় একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় আছে। এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও জেএসডির সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে আপ বাংলাদেশকে নিয়ে আপত্তি এবং জোটে যোগদান নিয়ে দ্বিধাবিভক্তির কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে আছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটের তফসিল ঘোষণা হতে পারে— অর্থাৎ আগামী সপ্তাহেই।
দুই আলোচিত উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়।
আসিফ—বিএনপি অথবা স্বতন্ত্র হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।
মাহফুজ—সরকারে থাকবেন নাকি লক্ষ্মীপুর-১ থেকে নির্বাচন করবেন—এ নিয়ে ভাবনায়।
তফসিল ঘোষণার আগেই তাঁদের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।