বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ডেপুটি গভর্নরের চারটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সফর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আটকে দিয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট সূত্রে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর—এই পাঁচ মাসের মধ্যে এসব সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি অনুমোদন (জিও) না পাওয়ায় কেউই যেতে পারেননি।
চারটি সফরের মধ্যে দুটিতে যাওয়ার কথা ছিল ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদের। বাকি দুটি সফরের একটিতে মনোনীত ছিলেন মো. হাবিবুর রহমান এবং আরেকটিতে জাকির হোসেন চৌধুরী।
ডেপুটি গভর্নরদের সফরে জিও প্রয়োজন
গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য সব কর্মকর্তার বিদেশ সফরের অনুমতি ব্যাংক নিজেই দেয়। তবে গভর্নর বা ডেপুটি গভর্নরদের বিদেশ যেতে হলে অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদনসহ সরকারি আদেশ (জিও) প্রয়োজন হয়, যা পরে যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে।
জুলাই থেকে নভেম্বর—চারটি সফরই আটকে যায়
-
জুলাই (মরক্কো): ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বোর্ডের (আইএফএসবি) বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কবির আহাম্মদের। জিও চাওয়া হলেও জারি হয়নি।
-
সেপ্টেম্বর (ফ্রান্স): ডিজিটাল লেনদেন ও কার্ড ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা ছিল জাকির হোসেন চৌধুরীর। খরচ বহন করত ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান। জিও না হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি।
-
নভেম্বর (যুক্তরাষ্ট্র): আইএমএফের এক দিনের কর্মশালায় হাবিবুর রহমানকে মনোনীত করা হয়। সফরের ব্যয়ভার ছিল আইএমএফের। অনুমতি না মেলায় সফর বাতিল।
-
নভেম্বর (চীন): আইএমএফের আরেক কর্মশালায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল কবির আহাম্মদের। জিও না পাওয়ায় তিনিও যেতে পারেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় ডেপুটি গভর্নরদের কয়েকটি আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও সম্মেলনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশির ভাগ বিদেশ সফরের খরচ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বহন করলেও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন করে সরকারের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ শুরু করার পর থেকেই এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।
সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, “এ তো রীতিমতো ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। দেশের আর্থিক খাত এমনিতেই ভালো নেই—এভাবে চললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ লিখিতভাবে জানিয়েছে—
-
কবির আহাম্মদের মরক্কো সফরের সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অনুমোদন করেনি।
-
জাকির হোসেন চৌধুরীর ফ্রান্স সফর নাকি সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী।
-
হাবিবুর রহমান নাকি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন—এক দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন না।
-
কবির আহাম্মদের চীন সফরের সারসংক্ষেপ এখনো প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়।
আর লাগলে জানাবেন!
