
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা আবারও পিছিয়েছে। আগে ৭ ডিসেম্বর যাত্রার সম্ভাবনা জানানো হলেও নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ ডিসেম্বর। তবে পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই তারিখও পরিবর্তিত হতে পারে।
চিকিৎসা–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে যাত্রা আরও দুদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
কাতারের ব্যবস্থাপনায় নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী এটি ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অবতরণ করবে। কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে পাঠানোর কথা থাকা বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিকল্প হিসেবে দ্রুত জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে।
ঢাকায় কাতার দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জার্মান প্রতিষ্ঠানের এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি জর্জিয়ার তিবিলিসি থেকে ঢাকায় আসবে। চিকিৎসক দলের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত যাত্রার সময় ঠিক হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীর সংখ্যা সীমিত রাখা হবে। বিএনপি প্রাথমিকভাবে যে ১৮ জনের তালিকা তৈরি করেছিল, সেখান থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকজনই সঙ্গে যেতে পারবেন। বাকিরা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে লন্ডন যেতে পারেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, চিকিৎসকেরা খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারিত সময়ে এলে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন তাঁর পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান। তিনি পৌঁছানোর পর সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করেন এবং পরে ধানমন্ডির পৈতৃক বাসায় যান। রাতে তিনি আবার হাসপাতালে ফিরে আসেন। আগে থেকেই তিনি ভার্চ্যুয়ালি চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তি কামনায় সারা দেশে মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও দেশব্যাপী প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়।