ব্রিসবেন টেস্টের চতুর্থ দিনে বল হাতে খুব একটা সাফল্য পাচ্ছিল না অস্ট্রেলিয়া। দিনের প্রথম সেশনেই কোনো উইকেট না হারিয়ে খেলেছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় সেশনেও সেঞ্চুরিয়ন–সুলভ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বেন স্টোকস ও উইল জ্যাকস। সপ্তম উইকেটে দুজন মিলে ২২০ বল খেলে গড়েন ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। জুটি ভাঙতে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল বিশেষ কিছু—আর সেটাই এনে দেন স্মিথ ও নেসার।
মাইকেল নেসারের বলে স্লিপে লেফটে ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন স্টিভ স্মিথ, ফেরত পাঠান ৪১ রান করা উইল জ্যাকসকে। কিন্তু জ্যাকস ফেরার পরও স্বস্তি পায়নি অস্ট্রেলিয়া। কারণ ক্রিজে তখনো উপস্থিত ছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্টোকস। লোয়ার অর্ডার নিয়ে স্টোকস কী করতে পারেন, তা সবাই জানে।
তবে স্টোকসকেও বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। নেসারের গতিময় বল সামলাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচ দেন অ্যালেক্স ক্যারি। পুরো ম্যাচেই ক্যারি দেখিয়েছেন চমৎকার কিপিং। বলের অসমান বাউন্স সামলে, প্রয়োজন অনুযায়ী স্টাম্পের কাছে উঠে এসে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেভ ও ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। ম্যাচে শেষ উইকেটটিও নেন নেসার, আর তাঁর বলেই ঘরের মাঠে ৫ উইকেটের দুর্দান্ত অর্জন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৪১ রানে। ফলে ব্রিসবেন টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন মাত্র ৬৫ রান।
এর আগে ১৭৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ভালো শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। ওপেনার বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলি ৭.৪ ওভারে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। ১ উইকেটে ৯০ রান তোলার পর ভালো অবস্থানে থাকলেও দিনের শেষদিকে মাত্র ৩৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্টোকসের দল। পরে স্টোকস–জ্যাকস জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত শেষ ৪ উইকেট ইংল্যান্ড হারায় মাত্র ১৭ রানে।
ব্রিসবেনে ম্যাচ এখন পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার দখলে।
