
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোররাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কেরোসিন ঢেলে কবরস্থানটির সীমানাপ্রাচীর ও বাঁশঘেরা অংশে আগুন লাগায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানা–পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফজরের নামাজে আসা মুসল্লিরা প্রথম আগুন দেখতে পান। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এসে আগুন নেভান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পেট্রল ও কেরোসিনের তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে।
তারাপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থানের দেখভালকারী শহিদুল বলেন, ফজরের আজান দিতে গিয়ে তিনি আগুন দেখতে পান। তিনি মনে করেন, কবরস্থানে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এবং আশপাশেও আগুন লাগার উৎস নেই—তাই ঘটনাটি যে পরিকল্পিত নাশকতা, তা স্পষ্ট।
ঘটনার পর থানায় অবস্থান করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি জানান বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবং কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সজীব হোসেন। তিনি জানান, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন একরের বেশি জায়গার কবরস্থানে ২০২২ সালে প্রায় ৪ শতাংশ জায়গা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। সেখানে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই আগুন দেওয়া অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ঘটনাস্থলে এখনো কেরোসিনের গন্ধ রয়েছে।”
পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম খান জানান, স্বাধীনতার চেতনায় অবিশ্বাসীদের কাজই এটি। মুক্তিযোদ্ধা, ইউএনও এবং থানার ওসি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। তিনি বলেন, “বিজয়ের মাসে এমন ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, তাই এর কঠোর বিচার প্রয়োজন।”
পাংশা ইউএনও মো. রিফাতুল হক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এটি পরিকল্পিত আগুন বলেই মনে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।