জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ) ঘোষণা করা হয়েছে। বহুদিন ধরে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত জাতীয় পার্টির দু’টি অংশের নেতৃত্বে এই জোটে যুক্ত হয়েছে মোট ১৮টি রাজনৈতিক দল। সোমবার রাজধানীর গুলশান–১–এর একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে, আর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। জোটের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ারকে করা হয়েছে জোটের প্রধান সমন্বয়ক।
জোটে থাকা দলগুলোর তালিকা
জোটে রয়েছে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন অংশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি), জনতা পার্টি বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (মহসিন রশিদ), জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় সংস্কার জোট ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি (সেকান্দার আলী)। এই দলগুলোর মধ্যে ৬টি নিবন্ধিত।
জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ব্রুনেইর দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
নতুন জোটকে ঘিরে নেতাদের মন্তব্য
প্রধান অতিথি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, অতীতে বহু জোটের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা থেকে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও পরিবর্তনের এই প্রচেষ্টা সময়োপযোগী। তিনি অভিযোগ করেন, ৫৪ বছরে উন্নয়ন হলেও মৌলিক অধিকার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত হয়নি। তাঁর দাবি, সরকারগুলো ভয় দেখিয়ে দেশ চালিয়েছে এবং প্রকৃত স্বাধীনতার অনুভূতি আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ কমানো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় জনগণের আস্থা আরও কমেছে।
এনডিএফের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতির কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই। মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও নির্বাচন নিয়ে এখনো জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। তিনি বলেন, ‘মাফিয়া–নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচন ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারে। জনতা পার্টির মহাসচিব সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তিও দাবি করেন তিনি।
জোটের প্রধান মুখপাত্র রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় জীবন এখন সংকটময় সময় পার করছে। সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করাই এখন জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে অন্তর্বর্তী সরকার সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করবে, কারণ কাউকে বাদ দিলে সেই নির্বাচন টেকসই হবে না।
প্রয়োজন হলে আরেকটি সংক্ষিপ্ত বা আরও সাংবাদিক–স্টাইলের ভার্সন লিখে দিতে পারি।
