ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ – ১৯৭৯ সালের পর সোনার দাম বৃদ্ধির দিক থেকে চলতি বছর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্কে সোনার আগাম লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সোনার দাম বেড়েছে ৭১ শতাংশ, যা একাধিক সংকটের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনাকে লাভজনক করেছে।
১৯৭৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সময় মধ্যপ্রাচ্যে সংকট, ইরানের ইসলামি বিপ্লব এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানিসংকটের কারণে এক বছরে সোনার দাম ১২৬ শতাংশ বেড়েছিল। ৪৬ বছর পর চলতি বছরের বৃদ্ধি ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বছরের শুরুতে আউন্সপ্রতি সোনার আগাম দাম ছিল ২,৬৪০ ডলার, যা বছরের শেষ প্রান্তে ৪,৫০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৫,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, ডলারের দুর্বলতা, ফেডের সুদহার কমার সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার প্রবণতা সোনার মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য সোনার মজুত বাড়াচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে গত তিন বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতিবছর এক হাজার টনের বেশি সোনা কিনেছে, যেখানে এর আগে এক দশকে বার্ষিক সোনা কেনার পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০০–৫০০ টন। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সংকটের মধ্যে সোনা ক্রয় দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক, কারণ ডলারের মূল্য ওঠানামা বা মূল্যস্ফীতি সোনার মূল্যে তেমন প্রভাব ফেলে না।
