বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তির ধ্বংস, সরকারি ভবনগুলোর গ্রাফিতিতে ছেয়ে যাওয়া, এবং কুখ্যাত পুলিশি দপ্তরগুলোতে আগুন—স্বৈরশাসকের পতনের ঠিক পরবর্তী মুহূর্তগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও শহুরে পর্যবেক্ষকের কাছে যেন ‘ডে ওয়ান’ বা নতুন সূচনার দিন। কিন্তু ইতিহাস সতর্ক করে যে, স্বৈরাচারের অবসান স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বা নৈতিক পুনর্জাগরণ নিশ্চিত করে না।
লেখক মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান উল্লেখ করেছেন, স্বৈরাচারী শাসন দীর্ঘমেয়াদিভাবে নাগরিক সমাজকে বিচ্ছিন্ন ও অন্ধ আনুগত্যে নিমজ্জিত করে। হাভেল ও মিউশের মত চিন্তাবিদদের তত্ত্ব অনুযায়ী, নাগরিকরা প্রকাশ্য আনুগত্য প্রদর্শন করে, কিন্তু অন্তরে নিজেদের স্বাধীন চিন্তা লালন করে। তবে দীর্ঘ সময় এই ‘দ্বৈত জীবন’ চালিয়ে যেতে গিয়ে মানুষ তার নিজস্বতা ও নৈতিকতা হারাতে পারে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের এরিখ ফ্রমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বাধীনতা মানুষের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করে, যা তারা সহ্য করতে পারে না। ফলে অনেকেই ‘নিশ্চিত পরাধীনতা’ বেছে নেয়। ল্য বনের তত্ত্ব অনুযায়ী, জনতা পরিচয়হীন ভিড়ের মাধ্যমে সহজে উন্মত্ত ও আবেগপ্রবণ হয়ে যায়, যা ফ্যাসিবাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে।
স্বৈরাচারের অবসান তাই শুধুমাত্র রাজনীতির চরম পরিবর্তন নয়; এটি নাগরিকদের জন্য নৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের শুরু, যেখানে গণতান্ত্রিক সংহতি ও বাস্তব স্বাধীনতা অর্জন করা কঠিন। স্বৈরাচার নস্যাৎ হওয়া মানেই মুক্তি নয়, বরং এটি জনগণের জন্য নতুন একটি ‘সুযোগ’ দেয়, যা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে না পারলে নৈতিক অরাজকতা ও ফ্যাসিস্ট প্রবণতার জন্য প্রস্তুত প্রজন্ম তৈরি হতে পারে।
