আফগানিস্তানে মেয়েদের সাধারণ স্কুলে পড়াশোনার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা শিক্ষার্থী আয়েশা আর স্কুলে যেতে পারবে না। ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর। মাদ্রাসার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি বা ভূগোলের শিক্ষার সুযোগ নেই।
মেয়েদের পড়াশোনার অনিশ্চয়তায় পরিবারের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। আয়েশার মা শাকিনা আদিল বললেন, “ওর তিন ভাই স্কুলে যাবে, কিন্তু সে বসে থাকবে বাড়িতে। ওর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।” একই সমস্যায় রয়েছেন হাসমত স্তানিকজাই ও তার মেয়েও।
তালেবান নেতৃত্বের ভেতরেও মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে বিভাজন রয়েছে। পশ্চিম আফগানিস্তানের মাওলানা আখতার জান জানিয়েছেন, মেয়েদের জন্য স্কুলের দরজা খোলা উচিত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার। ২০২১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় মেয়েদের শিক্ষার বিষয়টি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সামাজিক দিক থেকেও আফগানিস্তান রক্ষণশীল। পাঠান সম্প্রদায়ের মেয়েদের জন্য কড়াকড়ি বেশি, তাজিক বা হাজারা সম্প্রদায়ের মেয়েদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কিছু ছাড় রয়েছে।
শাকিনা ও হাসমত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। মেয়েদের পড়াশোনা পুনরায় শুরু করার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারা এখন মাদ্রাসা বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন, তবে পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত মূল বিষয়:
-
আফগানিস্তানে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর সাধারণ স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ।
-
মাদ্রাসার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়া যাবে।
-
পরিবার ও শিক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায়, অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যত।
-
তালেবান নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত; ভেতরে কিছু নেতারও বিরোধ রয়েছে।
-
আফগান সমাজের রক্ষণশীলতার কারণে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত।
