
ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চেইন অ্যানালাইসিস প্রকাশিত ২০২৫ গ্লোবাল ক্রিপ্টো অ্যাডপশন ইনডেক্স অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের ১৫১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। তালিকায় ভারতের অবস্থান প্রথম, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় এবং পাকিস্তান তৃতীয়। এরপর যথাক্রমে ভিয়েতনাম, ব্রাজিল ও নাইজেরিয়া রয়েছে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে।
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার ও লেনদেন আইনত নিষিদ্ধ হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ এখন অন্যতম শীর্ষ ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। চেইন অ্যানালাইসিসের প্রতিবেদন ও দেশের বাস্তবতা বিশ্লেষণে এ অবস্থানের পেছনে একাধিক কারণের কথা উঠে এসেছে।
কেন ১৩তম অবস্থানে বাংলাদেশ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ক্রিপ্টো ব্যবহারের প্রধান চালিকা শক্তি হলো পিয়ার টু পিয়ার (পিটুপি) লেনদেন। সরাসরি ব্যাংক বা কার্ডের মাধ্যমে ক্রিপ্টো কেনাবেচা সম্ভব না হলেও ব্যবহারকারীরা বাইন্যান্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করছেন। এসব লেনদেনে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ফ্রিল্যান্সিং ও রেমিট্যান্স খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের বড় একটি তরুণ জনগোষ্ঠী অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে দ্রুত ও কম খরচে পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য অনেকেই স্টেবলকয়েন, বিশেষ করে ইউএসডিটি ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ বিকল্প চ্যানেল হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া টাকার মান কমে যাওয়া ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থেকে সঞ্চয় রক্ষার উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ তাঁদের সম্পদ ডলারে রূপান্তরের চেষ্টা করছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্টেবলকয়েন সংরক্ষণ তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রিপ্টো একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।
চেইন অ্যানালাইসিসের সূচক প্রণয়নের ক্ষেত্রে শুধু বড় প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন নয়, বরং সাধারণ মানুষের ছোট অঙ্কের রিটেইল লেনদেনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন গেমিং ও আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটে পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবেও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি ও আইনি সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বিকল্প গেটওয়ে ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ক্রিপ্টো ইকোসিস্টেমে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ডিজিটাল মুদ্রার প্রভাব ও ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।